উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় সিনেপ্লেক্স ‘মধুবন’ এখন আর সিনেমা হল নয়, ব্যবহৃত হচ্ছে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে। সিনেমার অভাবে দর্শক উপস্থিতি না থাকায় এবং প্রচলিত ব্যবসা লাভজনক না হওয়ায় প্রেক্ষাগৃহটি এখন বিয়ের অনুষ্ঠান, সামাজিক সভা ও ভোজের আয়োজনের জন্য খোলা হচ্ছে।
মধুবন সিনেপ্লেক্সের কর্ণধার রোকনুজ্জামান ইউনূস সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভালো কনটেন্ট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা প্রদর্শন সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। তার ছেলে এসএম ইউনূস বলেন, “আমাদের এখানে স্টার সিনেপ্লেক্সের মতো আধুনিক সুবিধা নেই। প্রতি মাসে প্রচুর খরচ হয়, যা সিনেমার টিকিট বিক্রি দিয়ে তুলতে পারছি না। বন্ধের আগে মাত্র তিন মাসে প্রায় ৯ লাখ টাকার খরচ হয়েছিল, যা আমরা অর্জন করতে পারিনি।”
তিনি আরও বলেন, “খরচ কিছুটা পূরণ করতে হলে আমাদের হলের আউটডোর ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি এটি কমিউনিটি সেন্টার বানানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।”
স্থানীয়রা বলছেন, মধুবন সিনেপ্লেক্স এক সময় সিনেমাপ্রেমীদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিনেমা হল পরিচালনার খরচ বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে হলটি ব্যবসায়িকভাবে টেকসই নয়। এখন মধুবন হলটি সামাজিক অনুষ্ঠান, বিয়ে, ভোজসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য ব্যবহার করা হলেও সিনেমাপ্রেমীদের মনে রয়েছে প্রাচীন এই হলের স্মৃতি।
কর্ণধার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কনটেন্ট ও দর্শক উপস্থিতি বাড়লে আবার সিনেমা প্রদর্শনের সম্ভাবনা খোলা আছে।