Ridge Bangla

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের অংশগ্রহণ নিয়ে গভীর উদ্বেগে ভারত

বুধবার (১৩ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের অংশগ্রহণের জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের চীন সফরকালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’ নামে পরিচিত এই পরিকল্পনায় নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণের মতো বড় ধরনের প্রকৌশলগত কাজ রয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনায় এ কাজ পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে চীনের। কারণ, দেশটি ইতোমধ্যে নিজ দেশে এ ধরনের বড় কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত কর্ণফুলী টানেলেও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রধান সহযোগী দেশ হিসেবে কাজ করেছে চীন।

বাংলাদেশের এই তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে গভীর আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির মতে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ‘শিলিগুড়ি করিডর’-এর নিকটে বেইজিংয়ের এই উপস্থিতি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের তথ্যমতে, তিস্তা নদীর উন্নয়ন ও সংরক্ষণের আড়ালে চীন এই অঞ্চলে ভূকৌশলগত আধিপত্য বিস্তার করতে চায় বলে মনে করছে ভারত। মঙ্গলবার (১২ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন যে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে। নয়াদিল্লি তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমানায়ও এখন চীনের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজরদারি করছে।

বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের যুক্ত হওয়া নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রকল্পের অবস্থান ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের অত্যন্ত কাছে। চীন এই প্রকল্পে যুক্ত হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সরাসরি বেইজিংয়ের সামরিক নিশানায় চলে আসতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটি।

ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের বাঁধ নির্মাণের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশকে সতর্ক করে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের হাতে পানির নিয়ন্ত্রণ থাকলে তা যেকোনো সময় ‘পানিবোমা’ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, যা ভারতীয় অঞ্চল আসাম ও অরুণাচলসহ বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা ডেকে আনতে পারে।

পূর্বে শেখ হাসিনার সরকার এই প্রকল্পের দায়িত্ব ভারতকে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র বৈঠকে এই প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ায় ভারতের অস্বস্তি আরও বেড়েছে।

নয়াদিল্লি ঢাকাকে পরামর্শ দিয়েছে যে, তিস্তা প্রকল্পে চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় যাওয়ার আগে ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ নির্মাণ বন্ধে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত। মেকং নদীর উদাহরণ টেনে ভারত মনে করিয়ে দিয়েছে যে, চীনের বাঁধ নির্মাণের ফলে ভাটির দেশগুলো সবসময়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন