চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকায় আতঙ্কের নাম শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যা। একসময় চুরি, ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়ে অপরাধে যুক্ত হলেও পরে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। দিনে দিনে হয়ে উঠেছেন কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বদানকারী স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী বড় ভাই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুইস্যা ও তাঁর অনুসারীরা এলাকায় চাঁদা না পেলে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করেন। সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর তাঁর সহযোগী মুন্না পাঁচলাইশের বাদুরতলা এলাকায় এক গ্যারেজে গুলি ছোড়েন, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত বছর চান্দগাঁও থানার পাশে এক গ্যারেজে চাঁদা না পেয়ে শহীদুল নিজেই গোলাগুলি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভোলার দৌলতখান উপজেলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে শহীদুল বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর এলাকায় বসবাস করেন। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রায় ২০টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শহীদুল প্রায় ৩০ সদস্যের একটি বাহিনী পরিচালনা করেন, যারা মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিতে জড়িত। সম্প্রতি তাঁর তিন সহযোগীর কাছ থেকে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩টি ম্যাগাজিন ও ৫৮টি বুলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের আস্তানায় গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশি অস্ত্রের নমুনাও পাওয়া গেছে।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে শহীদুল আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। বহদ্দারহাটের একটি ভবনের ফ্ল্যাটে তিনি ‘টর্চার সেল’ পরিচালনা করতেন, যেখানে কেউ চাঁদা প্রদান করতে অস্বীকার করলে তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হতো। গত জুলাইয়ে ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাঁর ১১ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চান্দগাঁও থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, শহীদুল ও তাঁর সহযোগীরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে চাঁদাবাজি এবং সহিংসতা চালাতেন। অভিযানে বিভিন্ন আস্তানা থেকে মাদক ও টাকার পাশাপাশি ব্যাংকের টাকা গণনার যন্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।