Skip to main content

Ridge Bangla

ট্রাম্পের পারমাণবিক পদক্ষেপে রাশিয়ার নীরবতা

ইতিহাসে কি এবারই প্রথম, সোশ্যাল মিডিয়ার বাকযুদ্ধ থেকে পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের এক পোস্টে ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি দুটি পারমাণবিক সাবমেরিনকে রাশিয়ার কাছাকাছি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এতে মস্কোর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে? আমেরিকা-রাশিয়ার মধ্যে কি সত্যিই পারমাণবিক সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে? নাকি এটি ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের এক ‘ইন্টারনেট যুগের সংস্করণ’? রাশিয়ার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে—তা নয়। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে তুচ্ছ করে দেখছে। মস্কোভস্কি কমসোমোলেটস-এ এক সামরিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প কেবলমাত্র উত্তেজিত।

একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কমার্স্যান্ট-কে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাবমেরিন প্রসঙ্গে মন্তব্য অর্থহীন, এতে তিনি নিজেকেই বিপদে ফেলছেন। অন্য এক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, “আমি নিশ্চিত ট্রাম্প আসলে কোনও আনুষ্ঠানিক আদেশ দেননি।”

কমার্স্যান্ট উল্লেখ করেছে, ২০১৭ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করতে দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন কোরীয় উপদ্বীপে পাঠিয়েছেন, কিন্তু অল্পদিন পরই তিনি কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এবারও কি এই পদক্ষেপ আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া শীর্ষ বৈঠকের ইঙ্গিত? যদিও এখনই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ক্রেমলিন, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়—কোনো পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। রাশিয়ার প্রেসে প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, মস্কো হয়তো বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ট্রাম্প ও মেদভেদেভের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলা সোশ্যাল মিডিয়ার তর্ক-বিতর্ক থেকে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য রাশিয়াকে দেওয়া ৫০ দিনের আলটিমেটাম হঠাৎ করে দুই সপ্তাহ কমিয়ে দেন ট্রাম্প। জবাবে মেদভেদেভ পোস্ট করেন—ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে “আলটিমেটাম খেলা” খেলছেন, যা প্রতিটি ধাপে যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “মেদভেদেভকে বলুন, ক্ষমতাহীন এক ব্যর্থ সাবেক প্রেসিডেন্ট, যিনি খুব বিপজ্জনক অঞ্চলে প্রবেশ করছেন, তিনি যা বলছেন তা ভেবে বলুন।” এরপর মেদভেদেভ “ডেড হ্যান্ড”—সোভিয়েত যুগে তৈরি স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক প্রতিশোধ ব্যবস্থা—এর উল্লেখ করেন, যা ট্রাম্পকে আরও ক্ষুব্ধ করে।

প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তুলনামূলকভাবে উদার ভাবমূর্তির অধিকারী ছিলেন মেদভেদেভ। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি ক্রমেই পশ্চিমবিরোধী ও আক্রমণাত্মক ভাষ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন, যদিও ক্রেমলিনের মুখপাত্র হিসেবে তাকে দেখা হয় না।

নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তার পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “মেদভেদেভ পারমাণবিক বিষয়ে কিছু ভয়ঙ্কর কথা বলেছেন। যখন কেউ ‘পারমাণবিক’ শব্দটি ব্যবহার করে, আমার চোখ খুলে যায় এবং আমি সতর্ক হয়ে যাই—কারণ এটি চূড়ান্ত হুমকি।”

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম অংশ হলো অনির্দেশ্যতা—আলোচনার আগে বা চলাকালীন প্রতিপক্ষকে ভারসাম্যহীন করে তুলতে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তার সময়সীমা পরিবর্তন কিংবা এই সাবমেরিন মোতায়েন—দুটিই সেই কৌশলের অংশ হতে পারে।

This post was viewed: 49

আরো পড়ুন