স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়ায় পূর্বঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী শুক্রবার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেট্রোরেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে মেট্রোরেলের যাত্রীসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বস্তির দিকে মোড় নেয়। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে ডিএমটিসিএলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানায়।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১২ বছরে ডিএমটিসিএলের ৯০০-র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি। ২০২২ সালে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা নিয়মিত ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট অ্যালাউন্স, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন।
জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়ন করার কথা ছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। এরপর ২০ মার্চের মধ্যে সার্ভিস রুল চূড়ান্তের আশ্বাস দিলেও সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে কর্মীদের ক্ষোভ বাড়ে।
১০ ডিসেম্বর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে সভায় জানানো হয়, সার্ভিস রুলের সব ধারা নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ একমত হলেও ‘বিশেষ বিধান’সংক্রান্ত অধ্যায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মচারীদের দাবি, প্রকল্পের জনবলকে ডিএমটিসিএলে আত্তীকরণের এই বিধান দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।