দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ রোববার সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে নতুন একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই দিনে ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ৪৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফরহাদ হোসেনের ব্যক্তিগত ১২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা স্বাভাবিক আয়-ব্যয়ের তুলনায় সন্দেহজনক। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি মানি লন্ডারিং আইনেও তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে আটক হওয়ার পর ফরহাদ হোসেন বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। জামিন পেলে তিনি পালিয়ে আত্মগোপনে যেতে পারেন কিংবা দেশত্যাগ করতে পারেন- এই আশঙ্কায় দুদকের পক্ষ থেকে তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে, ঢাকা-৮ আসনের সাবেক এমপি বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক মো. হোসাইন শরীফের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত নাছিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৪৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন। এসব হিসাবে প্রায় ৩৩ কোটি ১৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা জমা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এসব অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর ও বিদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় আদালত অবিলম্বে এই হিসাবগুলোর লেনদেন স্থগিত করার আদেশ দিয়েছেন।
দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এই আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই আইনি পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।