সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ছুটির সংখ্যা কমাতে চায় সরকার। সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন বহাল রেখেই শিক্ষা পঞ্জির অন্যান্য ছুটি কমিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৫ উপলক্ষে রোববার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিধান রঞ্জন এ পরিকল্পনার কথা জানান। সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়।
বিধান রঞ্জন রায় বলেন, আমাদের দেখতে হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে কতটা সময় ব্যয় করা যাচ্ছে। বর্তমানে মাত্র ১৮০ দিন স্কুল খোলা থাকে। অপ্রয়োজনীয় ছুটি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কাজে সম্পৃক্ত না করারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এক ধরনের দাবি আছে, শিক্ষকরা হচ্ছেন ভ্যাকেশন ডিপার্টমেন্টে, নন-ভ্যাকেশন হতে চাইলে এটা সঙ্গে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষের প্রসঙ্গ আছে। ফলে এ ধরনের একটা চিন্তা আছে, তবে এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। তবে আমাদের ক্যালেন্ডারে যে ছুটি আছে সেক্ষেত্রে কিছুটা কমিয়ে আনা হবে।
প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে মামলার কারণে পদোন্নতি আটকে আছে। এ সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের বদলি শতভাগ অনলাইনে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন দিন ছুটি কমানো হবে সেটা এখনো নির্ধারিত হয়নি, চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা সহ আরো অনেকে বক্তব্য প্রদান করেন।