কুমিল্লার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রে নবখননকৃত ৫ নম্বর কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কূপটির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমদানির ওপর নির্ভরশীল করে দেশের জ্বালানি খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে গেছে বিগত সরকার। যে কারণে বৈশ্বিক সংকটে আমরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছি এবং ক্ষতি হচ্ছে। আমরা নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন করে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই। স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাবলম্বী হলে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি থেকে সহজে উত্তরণ হওয়া যাবে।’
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখেছিল, যার ফল আমরা এখন পাচ্ছি। আমরা বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে চাই, তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে চাই। আমরা প্রত্যাশা করছি, নিজেদের চাহিদার চেয়েও বেশি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করতে পারব।’
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কূপটির খননকাজ শুরু হয়। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভূগর্ভস্থ এ কূপে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালের দিকে শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হতো। বর্তমানে এই ক্ষেত্রের পাঁচটি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।