বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি বর্তমানে একাধিক সমস্যার সম্মুখীন। ৬০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলা ও দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই তাঁকে আরও একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিল্পার নাম ও অবয়বভিত্তিক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিল্পা শেঠি নিজের সম্মান ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সুরক্ষার জন্য গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) মুম্বাই হাইকোর্টে আবেদন করেন। তাঁর পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয় যে, কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই তাঁর কণ্ঠস্বর ও চেহারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নকল করে অসদুদ্দেশ্যমূলক কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁর নাম ব্যবহার করে ডিজিটাল বই প্রকাশের কথাও উল্লেখ করা হয়।
অভিনেত্রীর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সাইবার হেনস্তাকে একটি গুরুতর ও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। শিল্পার আইনজীবী আদালতকে জানান, এ ধরনের আপত্তিকর ও মিথ্যা কন্টেন্টের কারণে শিল্পা শেঠি গভীর মানসিক সংকটে রয়েছেন এবং নিজেকে নিরাপত্তাহীন বোধ করছেন।
আদালতে জমা দেওয়া প্রমাণ ও স্ক্রিনশট পর্যালোচনার পর বিচারপতি তাঁর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কারও ব্যক্তিগত জীবনকে এইভাবে জনসমক্ষে হেয় করার অধিকার কারও নেই। কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা ছবি অপব্যবহার করে সাইবার হেনস্তা চালানো একটি জঘন্য অপরাধ।”
এই মামলায় মুম্বাই হাইকোর্ট জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। সমস্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়েবসাইট থেকে অবিলম্বে শিল্পা শেঠির সকল আপত্তিকর ও ভুয়া কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে যারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।