বিশ্বের প্রথম সুপারমুনের সাক্ষী হলো পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির মিনারগুলোর পাশ দিয়ে যে চাঁদ উদিত হয়েছিল, তা ছিল বছরের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল পূর্ণিমা।
চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর চারপাশে পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়, বরং কিছুটা উপবৃত্তাকার। আজকের রাতে চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম বিন্দুতে অবস্থান করছিল, একই সময়ে ঘটেছে পূর্ণিমা। এই মহাজাগতিক সম্মিলনই তৈরি করেছে ‘সুপারমুন’। সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় এটি প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখা গেছে।
ঐতিহ্যগতভাবে এটি পরিচিত ‘উলফ মুন’ বা ‘নেকড়ে চাঁদ’ নামে। প্রাচীন ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় এই সময়ে কনকনে শীতে লোকালয়ের বাইরে নেকড়ে পালের ডাক শোনা যেত। সেই আদিবাসী লোককথা ও প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ থেকেই এই কবজিময় নামের উৎপত্তি।
মসজিদুল হারামের পবিত্র স্থান এবং মসজিদে নববির শান্ত পরিবেশের ওপর দিয়ে এই বিশালাকার চাঁদের উদয় এক অতুলনীয় মহাজাগতিক দৃশ্য তৈরি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই দৃশ্য অবলোকন করেছেন।
আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় বাংলাদেশ থেকেও সন্ধ্যা থেকে সারা রাতজুড়ে এই সুপারমুন স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। চাঁদের অস্বাভাবিক আকার ও উজ্জ্বলতা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে।
এই সুপারমুন মহাবিশ্বের নিয়মিত চক্রেরই অংশ, তবুও এর মহিমা ও সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করার মুহূর্ত মানুষকে প্রকৃতির কাছে নিয়ে যায়, ভাবায় মহাজাগতিক ব্যবস্থাপনার নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।