লালমনিরহাট থেকে লক্ষ্মীপুর যাওয়ার পথে একটি যাত্রীবাহী বাসের বক্সে দমবন্ধ হয়ে ৪৭টি ছাগল মারা গেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের দায়ে বাসের সুপারভাইজার ও ছাগল মালিককে জরিমানা করেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উভয়কে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন লালমনিরহাটের সাপটানা এলাকার মো. আবুল হাসেম (বাসের সুপারভাইজার) এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. ফারুক।
জানা গেছে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) লালমনিরহাট থেকে আনন্দ পরিবহনের একটি বাসে ৪৭টি ছাগল লক্ষ্মীপুরে আনা হচ্ছিল। একই সঙ্গে নোয়াখালীর আরেক ব্যবসায়ীর ৮টি ছাগলও বাসের নিচের বক্সে তোলা হয়। ছাগলগুলোকে একসঙ্গে গাদাগাদি করে রাখায় সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ ছিল না। দীর্ঘ পথযাত্রা, তীব্র গরম ও বাতাসের অভাবে রাতের দিকে সব ছাগল দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।
ঘটনার পর মালিক ও বাসের সুপারভাইজারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি পুলিশে জানানো হলে উভয়কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা কার্যকর করা হয়।
ছাগল মালিক মো. ফারুক দাবি করেন, অবহেলার কারণে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়েছে এবং এতে তাঁর প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
অন্যদিকে বাসের সুপারভাইজার আবুল হাসেম বলেন, পথে ছাগলগুলো স্বাভাবিক ছিল। নোয়াখালীর চৌরাস্তায় ৮টি ছাগল নামানোর সময় দেখা যায়, সব মৃত।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন সোহেল রানা জানান, পশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের কারণে উভয়কে জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সতর্ক করা হয়েছে। মৃত ছাগলগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।