Ridge Bangla

বাড়ছে অজ্ঞাত মৃতের সংখ্যা, ১০ মাসে বেওয়ারিশ দাফন ৫৩৪ লাশ

পরিচয়হীন লাশের সংখ্যা দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকা এসব লাশের কেউ খোঁজ না নিলে শেষ আশ্রয় হচ্ছে ‘বেওয়ারিশ কবর’। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর অব্দি ১০ মাসে ‘আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম’ দাফন করেছে ৫৩৪টি অজ্ঞাত লাশ, যা প্রায় গত বছরের সমান।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গত বছর বেওয়ারিশ লাশ দাফন হয়েছিল ৫৭০টি, তার আগের বছর প্রায় ৪০০টি। সংস্থাটির এক কর্মকর্তার ভাষায়, “প্রতিদিনই একাধিক লাশ আমাদের কাছে আসে। কখনো নদী বা ড্রেন থেকে, কখনো দুর্ঘটনায় বিকৃত অবস্থায়। অধিকাংশ লাশেরই কেউ খোঁজ নিতে আসে না।”

নৌ-পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে নদী থেকে ৩০১টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে ৯২ জনের পরিচয় এখনো অজানা। গত বছর উদ্ধার হয়েছিল ৪৪০টি মরদেহ, যার ১৪১টির পরিচয় শনাক্ত হয়নি।

এ বছর নদী থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ৪১টি ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশের ভাষায়, অনেক সময় হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয় দেহ, পানিতে পচে গিয়ে মুছে যায় প্রমাণ। মাছ ও পোকায় খেয়ে ফেলে দেহের অবশিষ্টাংশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৮৩টি মৃত্যু ঘটছে, যার মধ্যে অন্তত দুই থেকে তিনটি লাশ অজ্ঞাত থাকে। সবচেয়ে বেশি লাশ উদ্ধার হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল থেকে।

রেলওয়ে পুলিশের তথ্য বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ঢাকা জেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন ১,৭৬৩ জন। সারাদেশে এ সংখ্যা ৩,৯১৮ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঢাকায়।

গত দশ বছরে অসচেতনভাবে রেললাইন পার হতে গিয়ে ৯,২৩৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে গত তিন বছরেই মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১৪০ জনে, যা গড়ে প্রতিদিন তিনজন।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর মতে, অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা বাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সংস্থার মতে, লাশ উদ্ধারই দায়িত্বের শেষ নয়, পরিচয় শনাক্ত করে মৃত্যুর কারণ ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

পরিচয় না মেলায় মর্গে পড়ে থাকা লাশের শেষ পরিণতি একটাই, তা হলো বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন। সর্বশেষ অক্টোবর মাসেই রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ৬৬টি অজ্ঞাত লাশ দাফন করেছে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু পরিচয়ের খোঁজ মিলছে না অনেকেরই।

This post was viewed: 44

আরো পড়ুন