Ridge Bangla

বন্ধু জরেজের হানি ট্র্যাপেই ২৬ টুকরো হয়েছে আশরাফুল

আলোচিত রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হক হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে র‍্যাব। হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে আশরাফুলকে হত্যা করে তার লাশ ২৬ খণ্ডে ভাগ করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব-৩। মামলার অন্যতম আসামি ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী শামীমা আক্তার কোহিনুরকে ১৪ নভেম্বর সকালে গুরুত্বপূর্ণ আলামতসহ কুমিল্লার লাকসামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন আজ শনিবার সকালে জানান, হত্যা মামলার প্রধান আসামি জরেজুল ইসলামের সঙ্গে কোহিনুরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। জরেজুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী কোহিনুর নিহত আশরাফুলের সঙ্গে মাসখানেক আগে যোগাযোগ শুরু করেন। নিয়মিত অডিও–ভিডিও কলে কথা বলার মাধ্যমে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। লক্ষ্য ছিল ব্ল্যাকমেইল করে আশরাফুলের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা আদায় করা। যার মধ্যে ৭ লাখ টাকা জরেজুলের ও বাকি অংশ কোহিনুরকে দেওয়ার কথা ছিল।

১১ নভেম্বর রাতে আশরাফুল রংপুর থেকে তার নিজ এলাকার বাল্যবন্ধু জরেজুলের সঙ্গে ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় পৌঁছানোর পর কোহিনুর শনিরআখড়ার নূরপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে মালটার শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে আশরাফুলকে অচেতন করা হয়। এরপর কোহিনুরের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে জরেজুল। পরদিন ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে জরেজুল ইয়াবার নেশায় উত্তেজিত অবস্থায় তাকে বেঁধে মুখে কসটেপ লাগিয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে হত্যা করে।

র‍্যাব জানায়, পরদিন সকালে জরেজুল বাজার থেকে চাপাতি ও দুটি ড্রাম এনে লাশটিকে টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে ফেলে। দুপুরে সিএনজি নিয়ে ড্রামগুলো বাসা থেকে বের করে হাইকোর্ট এলাকার কাছে ফেলে পালিয়ে যায় দুজন। কোহিনুরের দেওয়া তথ্য মতে শনিরআখড়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আশরাফুলের রক্তমাখা পোশাক, দড়ি, কসটেপসহ হত্যার বিভিন্ন আলামত। র‍্যাব বলছে, প্রাথমিকভাবে ব্ল্যাকমেইলই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। তবে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য জড়িত আছে কি না, তা প্রধান আসামি জরেজুলের গ্রেপ্তারের পর স্পষ্ট হবে।

গ্রেফতার হওয়া কোহিনুরকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছেন র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক।

উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর শাহবাগ থানা পুলিশ হাইকোর্টের সামনে দুটি ড্রাম থেকে ২৬ অংশে বিভক্ত দেহ একটি উদ্ধার করে। পরে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পরিচয় পাওয়া যায় নিখোঁজ আশরাফুলের।

This post was viewed: 31

আরো পড়ুন