চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি লঘুচাপের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে টানা কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির মতে, লঘুচাপটির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি বা দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, ২৪ অক্টোবরের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা ঝড়ো বাতাস হতে পারে। অন্যদিকে দেশের বাকি অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন হবে না। বর্তমানে মৌসুমি লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে, তবে এখনই বলা যাচ্ছে না নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না। তিনি আরও জানান, মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া মেঘ থেকেও বৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি রাজধানীতে যে হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছিল, তা ঘূর্ণিবায়ুর ঘূর্ণন ও জলীয় বাষ্পের প্রভাবে স্থানীয়ভাবে সৃষ্টি হয়েছিল।
মাসের শুরুতে প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, অক্টোবরে মোট তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর একটি মাসের প্রথম দিকে ইতোমধ্যে হয়েছে, বাকি দুটির মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের দুটি সময়ে বঙ্গোপসাগর সবচেয়ে বেশি ঘূর্ণিঝড়প্রবণ থাকে—একটি মৌসুমি বায়ু শুরু হওয়ার আগে (এপ্রিল থেকে মে) এবং অন্যটি মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর (অক্টোবর থেকে নভেম্বর)। সাধারণত নভেম্বর মাসেই বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা বেশি থাকে। সেই হিসাবে, অক্টোবর মাসেও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন তারা।