Skip to main content

Ridge Bangla

ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ সরকারকেও সরিয়ে দেবে: বিরোধীদলীয় নেতা

দেশে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ বর্তমান সরকারকেও ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই বিএনপি হাঁটা শুরু করেছে। তারা সব পর্যায়ে দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে যাচ্ছে। আমরা এটি মানব না। হাসিনাকে তাড়িয়েছি, যদি তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করে জনগণ তাদেরও তাড়াবে।’

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ভালোয় ভালোয় মেনে নিন। আমরা আমাদের জুলাইযোদ্ধা, জুলাই শহিদ ও ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে বেইমানি করব না। আমরা কথা রাখব। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করে কথা রাখব।’

সিলেটবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকার আন্দোলনের ডাক এলে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার ভাষায়, ‘ঢাকার জন্য ডাক আসবে, প্রস্তুতি নিন। ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। আমরা থামব না।’

সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে ৬ লেনের সড়ক নির্মাণ দ্রুত শেষ করা, দীর্ঘদিনের দাবির আলোকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার দাবি জানান।

সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে দেখতে হচ্ছে, সেই সরকার গণভোটে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে।’ তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘বিএনপি যদি জুলাই-তরুণদের ভুলে যায়, ১৪শ’ শহিদকে ভুলে যায়, তাহলে এর পরিণতি বিএনপিকে বরণ করতে হবে।’

নাহিদ ইসলামের দাবি, নির্বাচনের পর বিএনপি সংস্কারের বিষয়টি উপেক্ষা করে শুধু সংবিধান সংশোধনের ওপর জোর দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কিছু দালাল বুদ্ধিজীবীই বলছে সংশোধন প্রয়োজন, সংস্কার প্রয়োজন নেই। সরকার সংস্কার না করলে জনগণের মধ্যে যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমান সেই আস্থা ধরে রাখতে পারবেন না।’ তিনি জুলাই সনদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের আহ্বান জানান।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করছে। তার দাবি, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান সরকারকে আর তাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে না। তিনি বলেন, ‘যদি জুলাই সনদ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করা হয় তাহলে এই সরকার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না।’ এ বিষয়ে তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য। সরকারি দল বা ১১ দলের মধ্যে ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারার জন্য নয়। যতদিন পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জিত না হবে, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারকে বলতে চাই, আপনারাও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন। আমরা আপনাদের বন্ধু মনে করি। আমরা দেশের কল্যাণ চাই। যে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছেন, যদি সেই জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি করেন, গণভোটের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে যদি ছিনিমিনি করেন, বিশ্বাসঘাতকতা করেন, তাহলে আপনাদের পরিণাম শেখ হাসিনার মতো হবে।’

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন