Skip to main content

Ridge Bangla

ফেসবুক-টেলিগ্রামে অশ্লীল ভিডিও বাণিজ্য: প্রেমের ফাঁদে পড়ে সর্বনাশ তরুণীদের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টেলিগ্রাম এখন পরিণত হয়েছে পর্নোগ্রাফি বাণিজ্যের নতুন ঘাঁটিতে। “এক্সপোজ ভাইরাল ভিডিও”, “দেশি ভাইরাল ভিডিও”, “এক্সপোজ অরিজিনাল”, “ব্রেইনটস অফিসিয়াল ডেমো”সহ অসংখ্য গ্রুপে হাজার হাজার সদস্য যুক্ত হয়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই গ্রুপগুলোতে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী নারীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও আংশিকভাবে প্রকাশ করা হয় ‘ডেমো’ হিসেবে। পরে টেলিগ্রাম লিংকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিডিও বিক্রি করা হয় টাকা নিয়ে। কেউ কেউ মাসিক বা বাৎসরিক ‘প্রিমিয়াম’ কিনে এসব কনটেন্ট সংগ্রহ করে থাকে। টাকা লেনদেন হয় নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে, যেখানে অধিকাংশ একাউন্ট ভুয়া তথ্য দিয়ে খোলা।

তদন্তে জানা গেছে, প্রতারকরা প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বা আইডি হ্যাক করে এসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করছে। পরে সেগুলো বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছে চক্রের সদস্যরা। এতে প্রতিদিন অসংখ্য নারী ও কিশোরীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হচ্ছে, আর তারা সামাজিকভাবে চরম সংকটে পড়ছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধ হলেও চক্রগুলো ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও বিভিন্ন অভিযানে অনেক প্রতারক ও গ্রুপ অ্যাডমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, “আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত এ ধরনের অভিযোগ আসে। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হয়। পর্নোগ্রাফি নিয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।”

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব চক্র শুধু অর্থ নয়, পুরো এক প্রজন্মের মানসিক ও সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। তাই সামাজিক সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ—দুটোকেই সমানভাবে শক্তিশালী করতে হবে। এর পাশাপাশি তারা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

This post was viewed: 63

আরো পড়ুন