ফিলিপাইনে টাইফুনের আঘাতে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত এবং লক্ষাধিক মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছেন। টাইফুন ‘কালমায়েগি’র তাণ্ডবে সেবু নামের দ্বীপের পুরো শহর প্লাবিত হয়েছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ফিলিপাইনের একাধিক গণমাধ্যমে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ফিলিপাইনের বিমান বাহিনী (পিএএফ) জানিয়েছে, উত্তর মিন্দানাও দ্বীপে ত্রাণ তৎপরতায় সহায়তা করার জন্য মোতায়েন করা একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।
পিএএফ জানায়, হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বিমান বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে এগুলো পাইলট ও ক্রু সদস্যদের।
মঙ্গলবার ভোরে স্থলভাগে আঘাত হানার পর স্থানীয় ভাষায় ‘টিনো’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ে, কিন্তু এখনও ৮০ মাইল প্রতি ঘণ্টা (১৩০ কিমি/ঘণ্টা) বেগে বাতাস বইছে। বুধবারের মধ্যে এটি ভিসায়াস দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চল পেরিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে অগ্রসর হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, “সেবুর পরিস্থিতি সত্যিই চিন্তাজনক। আমরা আশা করেছিলাম বাতাস সবচেয়ে বিপজ্জনক হবে, কিন্তু জলই আমাদের জনগণকে সত্যিকারের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, বন্যার পানি ধ্বংসাত্মক।”
বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ডুবে যাওয়ার কারণে। ঝড়টি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে শহর ও গ্রামে কাদা জলের স্রোত বয়ে নিয়ে গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।