প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের যৌথ বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান (সিজেসিএসসি) জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃত নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। রোববার (২৬ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বৈঠকে জেনারেল মির্জা বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে, যা দুই দেশের জনগণের হৃদয়ের বন্ধনে আবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে।”
জেনারেল মির্জা জানান, করাচি ও চট্টগ্রামের মধ্যে নৌপথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ইতিমধ্যে চালু হয়েছে এবং ঢাকা-করাচি আকাশপথ চালুর প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে উভয়পক্ষ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি ভুয়া খবর, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভুয়া তথ্য এখন বৈশ্বিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এ বিপদের মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উপস্থিত ছিলেন।