আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পলাতক আসামিরা আর প্রার্থী হতে পারবেন না। এমন বিধান যুক্ত হয়েছে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)। পাশাপাশি, প্রার্থীদের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দাখিল ও তা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো আসনে একজন প্রার্থী থাকলে ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “নতুন সংশোধনীতে ভোটাধিকার ও প্রার্থিতা উভয় ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।” আদালত কাউকে পলাতক ঘোষণা করলেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবেন বলেও জানান তিনি।
সংশোধিত আরপিওতে আরও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইভিএম ব্যবহার বাতিল, ভোট গণনায় গণমাধ্যমের সরাসরি উপস্থিতি ও কভারেজের অনুমোদন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি।
ড. আসিফ নজরুল আরও জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই অভ্যুত্থান জাদুঘর আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন এবং শ্রম আইন সংশোধন আদেশের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আরপিও আইনও আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের পর কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় তদন্ত চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংশোধনী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।