দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ এখনো নিরক্ষর। এই নিরক্ষর জনগোষ্ঠী মূলত বিদ্যালয়বহির্ভূত বা ঝরে পড়া শিশু এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বক্তব্য দেন।
‘প্রযুক্তির যুগে সাক্ষরতার প্রসার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা এবং তারুণ্যের উৎসবসহ বিভিন্ন কর্মসূচি থাকছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাক্ষরতা কেবল অক্ষরজ্ঞান নয়, বরং মাতৃভাষায় পড়া, লেখা, অনুধাবন, যোগাযোগ এবং গণনাসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতা অর্জন হলো প্রকৃত সাক্ষরতা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪) অনুযায়ী, দেশের সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২২ দশমিক ১ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখনো নিরক্ষর। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য তাদের সাক্ষরজ্ঞান ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন-২০১৪ অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী নিরক্ষর নারী-পুরুষের জন্য সাক্ষরতা, জীবিকায়ন দক্ষতা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এবং ১৯৭২ সাল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়ে আসছে। স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জাতিকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।