Ridge Bangla

নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের অর্থনীতিতে আইআরজিসির প্রভাব বাড়তে পারে: টাইমস অব ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে আইআরজিসি।

তেল ও গ্যাস, নির্মাণ, বন্দর পরিচালনা, শিপিং, টেলিকমিউনিকেশন এবং অবকাঠামো খাতে আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে দেশটির অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ আসতে পারে এবং তেল রফতানিও বাড়তে পারে। তবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বড় একটি অংশ বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে আইআরজিসির প্রভাব অনেক বেশি।

ইরানের বিনিয়োগ কাঠামো অনুযায়ী, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত স্থানীয় অংশীদারের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ব্যবস্থার কারণে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

আইআরজিসির প্রধান প্রকৌশল ও বাণিজ্যিক শাখাগুলোর একটি খাতাম আল-আনবিয়া ইতোমধ্যে শত শত বড় অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিকম, পরিবহন, পর্যটন ও অটোমোবাইল খাতেও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে এই অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে তেল রফতানি বৃদ্ধি, পুনর্গঠন প্রকল্প এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় শক্তিশালী অংশীদারের প্রয়োজনীয়তা আইআরজিসির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

তবে এমন পরিস্থিতি নতুন আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতাও তৈরি করতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো আইআরজিসিকে নিষিদ্ধ বা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে সম্ভাব্য সমঝোতার পরও আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায় বিদেশি কোম্পানিগুলো আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি শুধু রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেই নয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। নিষেধাজ্ঞার সময় শক্তিশালী হয়ে ওঠা আইআরজিসির প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন