সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠন কমিশনের কাছে তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ ও বর্তমান গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১২টিতে নামানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
সংগঠনটির মুখপাত্র আব্দুল মালেক বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতন কাঠামো অপ্রতুল। সর্বশেষ পে-স্কেল ২০১৫ সালে কার্যকর হয়েছিল, যদিও নিয়ম অনুযায়ী ২০২০ সালে নতুন স্কেল হওয়া উচিত ছিল। তা না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে বেতন বৈষম্য ১:১০ অনুপাতে, যা কমিয়ে ১:৪ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরার জানিয়েছেন, পে-কমিশন আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পারে। প্রাথমিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। গত ২৭ জুলাই গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই ঘোষণা হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, এবং নতুন পে-স্কেল ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে পারে। সে অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীরা ওই মাস থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।