জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের নিজস্ব তহবিলে গঠিত বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট (বিসিসিটি)-এর প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটির গবেষণা অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিসিসিটির ৮৯১টি প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ৩ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার ১১০ কোটি টাকার বেশি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, বিসিসিটি প্রকল্পের ৫৪ দশমিক ১৮ শতাংশ অর্থ নানা প্রকার দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় বা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, প্রকল্প অনুমোদনে ঘুষ ও অবৈধ লেনদেনে ১৭৫ কোটি টাকা, ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মে ৬০০ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। তদারকি পর্যায়েও ৫৪ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর অর্ধেকের বেশি ছিল বিভিন্ন স্থানে সৌর সড়কবাতি স্থাপনসংক্রান্ত। যেখানে অতিরিক্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিসিসিটির দুর্নীতির ধরন ও পরিসর প্রমাণ করে এটি রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগসাজশে পরিচালিত একটি বিশেষ দুর্নীতির বিশেষ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সংস্থাটিকে পুনর্গঠন করে নতুনভাবে কাজ শুরু করার বিকল্প নেই।