গত বছরের শেষ সপ্তাহ থেকে চলমান তীব্র শীতের প্রভাবে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। শিশু ও নবজাতকরাই এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতালে সর্দি-কাশি-জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও ত্বকের রোগ নিয়ে অসংখ্য শিশু আসছে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, মাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের বহির্বিভাগে ৯৬৩ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া নিয়ে আসা ৩৩ জনের ৯ জনকে ভর্তি হতে হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ঠান্ডা (১৬৮ জন), অ্যাজমা (২৮ জন), ত্বকের সমস্যা (২০৩ জন) ও ডায়রিয়া (২৯ জন) নিয়ে অনেক শিশু চিকিৎসার জন্য আসে। একই সময়ে ১১৫ নবজাতক ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে।
একজন মা নাজমা আক্তার তার চার বছরের সন্তান সানবিনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, শিশুরা প্রায়ই পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরে না বা সতর্ক থাকে না, ফলে অজান্তেই ঠান্ডা লেগে যায়। লক্ষণ দেখা দিলেও অনেক সময় প্রথমে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে শেষ পর্যন্ত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শীতকালে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও প্রাইভেট চেম্বারে শিশু রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। শিশু হাসপাতালে শয্যাসংকটের কারণে অনেককেই ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে বাতাস শুষ্ক ও ধুলাবালি বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়। এ সময় কমন কোল্ড, ব্রংকিওলাইটিস, নিউমোনিয়া এবং অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ে। কিছু চর্মরোগও দেখা দেয়।
শিশুদের সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরানো ও মাথা ঢেকে রাখতে হবে, অহেতুক বাইরে নিয়ে না যাওয়া, ঠান্ডা লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানো, কুসুম গরম পানি পান করানো, কাপড় রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।