ট্রান্সকম গ্রুপের শেয়ার হস্তান্তরে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ১১ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ চার্জশিটটি গ্রহণ করে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনির হুসাইন।
চার্জশিটে সিমিন রহমান ছাড়াও ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক, মো. সামসুজ্জামান পাটোয়ারি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে আসে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় একটি বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি করা হলেও এ নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই সভায় শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়। তবে বাদীপক্ষের দাবি, নির্ধারিত তারিখে এমন কোনো সভা বাস্তবে হয়নি।
হাজিরা তালিকায় যাদের উপস্থিত দেখানো হয়েছে, তাদের অনেকেই ওই সময় ঢাকায় ছিলেন না। পাশাপাশি সভা আয়োজনের আগে কোনো নোটিস, ইমেইল বা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রমাণও তদন্তে পাওয়া যায়নি।
চার্জশিট অনুযায়ী, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত দেখিয়ে লতিফুর রহমানের মালিকানাধীন ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার সিমিন রহমানের নামে স্থানান্তর করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আরজেএসসির নির্ধারিত নিয়ম মানা হয়নি।
শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কেউই সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না, যা কোম্পানি আইনের বিধানের পরিপন্থী। নির্ধারিত সময়ের পর ফি পরিশোধসহ নথি জমার ক্ষেত্রেও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, সিমিন রহমান নিজের নামে শেয়ার নেওয়ার উদ্দেশ্যে পারিবারিক ডিড ও এফিডেভিট তৈরিতে জাল স্ট্যাম্প এবং স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করেন। আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট স্ট্যাম্পগুলো পরবর্তীকালে তৈরি এবং অবৈধভাবে ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে।