ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান মালয়ালম অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার শ্রীনিবাসন না ফেরার দেশে চলে গেছেন। শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, কেরালার কোচিতে ৬৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়াণে মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
মৃত্যুকালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০২২ সালে তিনি হৃদযন্ত্রের জটিল অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। শনিবার ডায়ালাইসিসের জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পথে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে ত্রিপুনিথুরার সরকারি তালুক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাঁর প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রদ্ধা ও শোকের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের বহু তারকা ও নির্মাতা এই ক্ষতিতে শোক প্রকাশ করেছেন।
অভিনেতা মোহনলাল একটি আবেগঘন পোস্টে তাঁদের দীর্ঘ বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি লিখেছেন, “শ্রীনিবাসনের সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্যে মালয়ালি দর্শক নিজেদেরই মুখ খুঁজে পেয়েছে। তিনি পর্দায় জীবনের সুখ-দুঃখ, হারানো গল্প ও মধ্যবিত্তের স্বপ্ন-ভাঙা স্বপ্ন অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বাস্তব জীবনের মতোই পর্দায় আমাদের যুগলবন্দি স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যার মূলে ছিল শ্রীনিবাসনের শক্তিশালী লেখনী।”
প্রবীণ অভিনেতা মাম্মুট্টি শ্রীনিবাসনের বাড়িতে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।
তামিল সুপারস্টার রজনীকান্ত একটি ভয়েস নোটে বলেন, “আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শ্রীনিবাসনের চলে যাওয়ার খবর আমাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। আমরা একসঙ্গে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পড়েছি। তিনি কেবল একজন অসাধারণ অভিনেতাই ছিলেন না, একজন দারুণ মানুষও ছিলেন। তাঁর আত্মা শান্তি পাক।”
অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ কমল হাসান এক্স (টুইটার)-এ লিখেছেন, “কেউ কেউ কেবল বিনোদন দেন, কেউ ভাবনা জাগান, কেউ প্রশ্ন তোলেন। শ্রীনিবাসন এ সবই করতেন। তাঁর হাসিতে ছিল সত্য, কৌতুকে ছিল দায়বদ্ধতা। এমন এক বিরল ব্যক্তিত্বকে আমার অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা।”
এছাড়া শোভনা, ঊর্বশী, মুকেশ, মানিয়ান পিল্লাই রাজু, জনার্দনন ও মাধুপালসহ আরও অনেক শিল্পী-ব্যক্তিত্ব শ্রীনিবাসনের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শ্রীনিবাসন তাঁর বহুমুখী প্রতিভা ও বাস্তবঘনিষ্ঠ গল্প বলার শৈলীর মাধ্যমে মালয়ালম সিনেমায় এক অমলিন ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম ও স্মৃতি চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সহকর্মীদের হৃদয়ে চিরকাল জাগরুক থাকবে।