Ridge Bangla

গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় পুলিশ দম্পতি কারাগারে

খুলনায় গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় এক পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফারুক ইকবাল তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন সঞ্জয় কুমার সাহা ও তার স্ত্রী পরি রানী সাহা। তারা দুজনই খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় সহকারী উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নরসিংদী থেকে খুলনায় এসে ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা করেন। পরে মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার দেখায়।

মিনতি রানী জানান, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তার মেয়ে ওই বাসায় কাজ করছিল। মেয়ের ওপর এমন নির্যাতনের বিষয়টি তিনি জানতেন না। তিনি মেয়েকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান।

নির্যাতনের শিকার কিশোরী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন ওই কিশোরী। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার অজুহাতে গৃহকর্মীর ওপর চড়াও হন সঞ্জয়ের স্ত্রী পপি রানী সাহা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাকে মারধরের পাশাপাশি গরম কড়াই দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়। একই সঙ্গে সঞ্জয় ও তার স্ত্রীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, বুধবার বিকেলে খুলনা সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় পাশের ভবনে নির্যাতনের ঘটনা দেখতে পান তিনি। পরে দূর থেকে ঘটনাটি ক্যামেরায় ধারণ করেন।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বুধবার থেকে ওই পুলিশ দম্পতি গৃহকর্মীর বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তারা দুজনই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন