ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহকে প্রকাশ্যে চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়ে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক ব্যক্তিকে সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে প্রাণনাশের হুমকি এবং আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যায়।
হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় মো. সোহরাব হোসেন। তিনি তারাকান্দা থানার আটাদার এলাকার মৃত জব্বার আলীর ছেলে।
ভাইরাল ভিডিওতে সোহরাব হোসেনকে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মোতাহার হোসেন তালুকদারকে নিয়ে কথা বললে সংসদ সদস্যের চোখ উপড়ে ফেলা হবে। এছাড়া পুনরায় রাস্তায় নামলে তার অবস্থা খারাপ করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং রাজনৈতিক উসকানিমূলক মন্তব্যের পাশাপাশি অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন।
মোতাহার হোসেন তালুকদার ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ওই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।
হুমকিদাতা সোহরাব হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, তিনি আগে বিষয়টি শুনেছিলেন, তবে পরে পুরো ভিডিওটি দেখেছেন। এখন আইনগত প্রতিকার পাওয়ার বিষয়ে উপজেলা থানা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
হুমকির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি মূলত চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া। তার দাবি, একটি পক্ষ উসকানি দিয়ে এলাকায় সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইছে। তবে কেউ তাদের সঙ্গে জড়াতে না চাওয়ায় তারা এ ধরনের আচরণ করছে।
ভিডিওতে মোতাহার হোসেন তালুকদারের নাম উল্লেখের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ভিডিওতেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে তার চোখ তুলে ফেলা হবে। অনেকেই তাকে জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে একাধিকবার মোতাহার হোসেন তালুকদারের সঙ্গে দেখা গেছে।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি ভয় পান না। তবে এ ধরনের ঘটনা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়াকেই যথাযথ পদক্ষেপ মনে করছেন।
অন্যদিকে মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত বিরোধের ফল। তার ভাষ্য, যার বাড়িঘর পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছিল, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে সংসদ সদস্যের বিরোধ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভিডিও প্রকাশের পরই তিনি ওই ব্যক্তিকে ভিডিওটি মুছে ফেলতে বলেন। তার দাবি, পরে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
দলীয় পরিচয় প্রসঙ্গে মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, সোহরাব হোসেনের দলের কোনো পদ নেই। সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজের নাম ভিডিওতে ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, তার নাম যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। তার মতে, সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওই ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাশিদ বলেন, পুলিশ ভাইরাল ভিডিওটি দেখেছে এবং বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ভিডিওতে সংসদ সদস্যকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের একজন প্রতিনিধি থানায় এসেছিলেন। পুলিশ তাদের সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দিয়েছে। প্রয়োজনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করার কথাও বলা হয়েছে। সাধারণ ডায়েরি হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।