Ridge Bangla

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বড় অগ্রগতির দাবি জেডি ভ্যান্সের

সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, কয়েক ঘণ্টার আলোচনাতেই দুই পক্ষ অনেক দূর এগিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের ওববুর্গেনের বার্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত লেক লুসার্ন সম্মেলনে এসব কথা বলেন ভ্যান্স। এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানিও উপস্থিত ছিলেন।

ভ্যান্স বলেন, আলোচনা এখন শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিয়েও এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টাতেই আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখেছি। আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও অগ্রগতি হবে বলে আমি আশা করছি।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বাস্তব ফল ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে লেবাননে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তার মতে, এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা পুরো শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ভ্যান্স বলেন, ‘গত কয়েক দিনে লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আমরা বড় ধরনের অগ্রগতি দেখেছি।’ তবে এ ধরনের সমঝোতা বাস্তবায়ন সহজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের যুদ্ধবিরতি সবসময় কিছুটা জটিল হয়।’

তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো অঞ্চলে একটি বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক অগ্রগতি বহু বছরের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভ্যান্স বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হলো, আমরা একসঙ্গে আরও কতদূর যেতে পারি? আমরা কি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারি? আমরা কি মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারি?’

তার ভাষ্য, সংকট সমাধানে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজতে ট্রাম্প প্রশাসন আলোচকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।

ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা হলো নতুন অধ্যায়ের সূচনা করা, ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বদলে দেওয়া এবং বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের নেতৃত্ব যদি অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার নীতি থেকে সরে আসে এবং স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্য ত্যাগ করে, তাহলে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত।

তবে সমঝোতার বার্তা দিলেও অতীতে ইরানকে ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার চালিকাশক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

এদিকে আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি এতে যোগ দেন।

আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে ভ্যান্স বলেন, শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত তিন মাসে সম্ভবত আমি ফিল্ড মার্শাল মুনিরের সঙ্গে যতবার কথা বলেছি, অন্য কারও সঙ্গে ততবার বলিনি।’

অন্যদিকে শেহবাজ শরিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন