জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। চার দশক পর এই পদে বাংলাদেশের দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিনিধিত্বকে বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউএনজিএকে ‘বিশ্ব সংসদ’ বলা হয়, যেখানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র সমান ভোটাধিকার নিয়ে বৈশ্বিক ইস্যুতে অংশ নেয়। নিরাপত্তা পরিষদের মতো কোনো ভেটো ক্ষমতা এখানে নেই।
সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান এক বছরের জন্য সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা করবেন। তার প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে বৈঠক ও অধিবেশন পরিচালনা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনায় সমন্বয়, প্রস্তাব ও ভোট প্রক্রিয়া তদারকি এবং বৈশ্বিক সংকটে সংলাপ সহজতর করা। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক ফোরামে সাধারণ পরিষদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এই পদটি মূলত সম্মানসূচক হলেও কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সভাপতি হিসেবে তিনি জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বিশেষ সুবিধা ও প্রটোকল পাবেন। তবে এই দায়িত্বের প্রশাসনিক ব্যয় ও কাঠামোগত খরচের বড় অংশ সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশ বহন করে।
এর আগে ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশের এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।