দীর্ঘ চার মাসের চিকিৎসা শেষে লন্ডন ছাড়লেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির দেওয়া বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
বিদায়ের সেই মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন ও হৃদয়ছোঁয়া। নিজের হাতে গাড়ি চালিয়ে মাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মায়ের চোখে ছিল অশ্রু, ছেলের হাত ধরে কিছু সময় চুপচাপ বসে থাকেন তিনি। বিদায়ের দৃশ্য দেখে আশপাশের অনেকের চোখও ভিজে ওঠে। গাড়ির পেছনের সিটে বসা ছিলেন দুই পুত্রবধূ—ডা. জুবাইদা রহমান ও সৈয়দা শর্মিলা রহমান। তাদের মুখে ছিল চাপা উদ্বেগ আর কোমল ভালোবাসার স্পর্শ।
খালেদা জিয়া গত ৭ জানুয়ারি ঢাকার গুলশান থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং পরদিন পৌঁছে ভর্তি হন লন্ডন ক্লিনিকে। সেখানে টানা ১৭ দিন চিকিৎসা গ্রহণের পর তারেক রহমানের বাসায় থেকে প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চালিয়ে যান।
ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ওঠার আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়া ছিলেন আত্মনিয়ন্ত্রিত, তবে বিদায়ের সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, “সেদিনের সেই মুহূর্ত ছিল পরিবার, রাজনীতি এবং বাংলাদেশের জন্য এক স্মরণীয় সময়।”
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি। সেখান থেকে তাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য়, যেখানে ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা ও অভ্যর্থনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।