সামাজিক এবং রাজনৈতিক ইস্যুতে বরাবরই স্পষ্ট অবস্থানে ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে নারী অধিকারের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি রাজপথে যেমন সরব ছিলেন, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও অকপটে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। কিছুদিন আড়ালে থাকলেও সম্প্রতি তিনি আবারো সক্রিয় হয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভাবনা ও মতামত প্রকাশ করছেন।
সম্প্রতি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাঁধন লেখেন, “আমি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বাস করি, কিন্তু সেখানে মরতে রাজি নই। আমি এমন এক পৃথিবী চাই না যেখানে কারও অধিকার নির্ধারিত হবে ক্ষমতার ভিত্তিতে, আর স্বাধীনতা মিলবে কিছু শর্তে।” তিনি যোগ করেন, “আমি বিশ্বাস করি এমন একটি ভবিষ্যতের দিকে, যেখানে প্রত্যেক মানুষের থাকবে নিজের মত প্রকাশের অধিকার, নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা, যা কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।”
বাঁধনের এই লেখাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এমন একটি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকট ছিল। এমনকি তাঁর বাবাও সেই সাংস্কৃতিক বাস্তবতার অংশ ছিলেন।
পূর্বে দেওয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে বাঁধন লিখেছিলেন, “আমি এখানে কারও নিয়ন্ত্রণে থাকার জন্য আসিনি। আমার জীবন, আমার নিয়ম—আমি কী করব, কীভাবে বাঁচব, তা একমাত্র আমিই ঠিক করব। কারও অনুমতি, প্রশংসা বা স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই আমার। আমাকে নিয়ন্ত্রণ করা? কখনও না, কোনোদিন না।”
এদিকে আসন্ন ঈদে মুক্তি পাচ্ছে আজমেরী হক বাঁধনের নতুন সিনেমা ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’, যা নির্মিত হয়েছে ২০০৯ সালে আজিমপুরে ঘটে যাওয়া একটি বাস্তব খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সিনেমাটিতে তিনি অভিনয় করেছেন একজন গোয়েন্দা পুলিশ চরিত্রে। তাঁর সহশিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন মিশা সওদাগর, শহিদুজ্জামান সেলিম, শতাব্দী ওয়াদুদ, শরীফ সিরাজ, নিবির আদনান নাহিদ, সুষমা সরকারসহ আরও অনেকে।