Ridge Bangla

গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় নিহত আরও ৪০ ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বর্বরতা থামছে না। হামাসকে উৎখাত এবং জিম্মিদের উদ্ধারের নামে দখলদার বাহিনী অব্যাহত রেখেছে নির্বিচার গণহত্যা। প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা, আর দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। নিরাপদ আশ্রয়ের কোনো জায়গা নেই গাজার বাসিন্দাদের জন্য। আকাশ ও স্থলপথে লাগাতার হামলার পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে ত্রাণ সরবরাহও। ফলে গাজা এখন রূপ নিয়েছে এক বিভীষিকাময় নরকে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গাজায় আরও বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় দখলদার বাহিনীর হামলায় আরও ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণে আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৫৪৫ জনে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৯১ জন।

এছাড়া, চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরুর পর থেকে অন্তত ২ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৬ হাজার ৩২৫ জন আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর হামাসের এক আকস্মিক হামলার পর গাজায় বড় আকারে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৯ জানুয়ারি একটি যুদ্ধবিরতিতে গড়ালেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতানৈক্যের জেরে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে আবারও গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে, মিশর ও কাতার যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করতে মধ্যস্থতা করলেও এখনও পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে।

ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হাতে এখনও ৫৯ জন ইসরায়েলি জিম্মি রয়েছে এবং গাজা থেকে হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল না করলে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। অন্যদিকে, হামাস বলছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ছাড়া কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তি হবে না।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিশরের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেনি; বরং চুক্তির পথে বাধা দিচ্ছে হামাসই। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে আন্তর্জাতিক মহলের আরও সক্রিয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

This post was viewed: 42

আরো পড়ুন