দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দিলেন কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। নির্বাচনে জয়লাভের পর গত শুক্রবার (২ মে) প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বড় কিছু করার জন্য আমি রাজনীতি করছি, বড় কিছু হওয়ার জন্য নয়।” ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন কার্নি। এর মাধ্যমে একই দল টানা চতুর্থবারের মতো কানাডার সরকার গঠন করলো। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর উত্তরসূরি।
কার্নির নির্বাচনী প্রচারে একটি বড় প্রতিশ্রুতি ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং কানাডার স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া। নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট যে, দেশটির জনগণ এই প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়েছে। শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে কার্নি বলেন, “আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে অচলাবস্থা নিরসন। এর অংশ হিসেবে আগামী মঙ্গলবার আমি ওয়াশিংটনে যাচ্ছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমার সরকার তাৎক্ষণিক বাণিজ্য চাপ মোকাবিলা ও দীর্ঘমেয়াদে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দেবে।” তবে কার্নি স্বীকার করেন, “ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বৈঠকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। কিন্তু এটা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।”
অর্থনীতিতে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে কানাডাকে এক নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান কার্নি, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় রূপান্তর হয়ে উঠতে পারে।