চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত খাবার পানির পাইপলাইনে পরিকল্পিতভাবে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগের অভিযোগে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঘটনার শুরু রোববার সকালে। পুলিশ সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধোয়া ও দাঁত ব্রাশ করার সময় পাইপলাইন থেকে ফেনাযুক্ত অস্বাভাবিক সাদা রঙের পানি এবং তীব্র দুর্গন্ধ লক্ষ্য করেন। ওই পানি মুখে দেওয়ার পর কয়েকজনের মধ্যে বমিভাব, পেটের সমস্যা ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তারা জরুরি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডিপ মোটর স্থাপিত কক্ষে প্রবেশ করতে না পেরে দুর্বৃত্তরা পাইপলাইনের সংযোগস্থল কেটে সেখানে সরাসরি রাসায়নিক কীটনাশক ঢেলে দেয়। একই পাইপলাইন থেকে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও পানি পান করত। এ কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “আলীনগরের যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় তিনশ সদস্য রয়েছেন। পাশের ডিপটিউবওয়েল থেকে তাদের পানি সরবরাহ করা হয়। দুর্বৃত্তরা ডিপটিউবওয়েলের সংযোগস্থলে বিষ বা বিষজাতীয় কিছু পুশ করে। অপারেটর সকালে পানি ও টাংকি চেক করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পেয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। এর মধ্যেই হাত-মুখ ধোয়ার পর দুই-তিনজন সদস্য সামান্য অসুস্থ বোধ করলেও পরে সুস্থ হয়ে যান।”
তিনি আরও বলেন, “রাস্তা কেটে দেওয়া বা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো এসব ঘটনা পুরোপুরি অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম (সাবভার্সিভ অ্যাক্টিভিটিজ)। দেশের ও সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে নিয়মিত মামলা রুজু করা হচ্ছে। আজ বিকেল পাঁচটা থেকে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আলীনগরকেন্দ্রিক চিহ্নিত অপরাধীরাই এ ঘটনার সাথে জড়িত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক বলেন, “আমাদের নিজস্ব ডিপ টিউবওয়েল ও পাম্পের পাইপলাইনটি নষ্ট করতে এবং মানুষ খুন করার কুমানসিকতা থেকে এই কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। স্কুলপড়ুয়া শিশুরাও এই পানি পান করত। অপরাধীদের এই অমানবিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
পুলিশের দাবি, যৌথ বাহিনীর তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রকাশ্যে হামলা চালাতে না পেরে গোপনে এ ধরনের হত্যাচেষ্টায় জড়িয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, এর আগে একই চক্র যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, ক্যাম্পে ভাঙচুর, সড়ক কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো কর্মকাণ্ডও চালিয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের অবৈধ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।