Ridge Bangla

আমি না বলা পর্যন্ত ইরানে হামলা চলবে: বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতুও ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতেও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে হামলা কত দিন চলবে এবং কখন তা বন্ধ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিজেই নেবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যতক্ষণ না আমি বলি যথেষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ হামলা চলবে।’

জ্বালানি স্থাপনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে আমি শেষের জন্য রেখে দিচ্ছি’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল করে দেব। তারা আলোচনার টেবিলে না আসা পর্যন্ত তাদের সব সেতুও ধ্বংস করে দেব।’

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার মাত্রা আরও বাড়বে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাচ্ছি। উপকূল ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় তাদের যা কিছু আছে, সবকিছুই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। যতক্ষণ না আমি বলব যে- (থামো) যথেষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ হামলা চলবে।’

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে আমি শেষের জন্য রেখে দিচ্ছি। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও হামলা হবে।’

পরবর্তী হামলার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা কঠোর হামলা চালাব। আগামী রাতেও হামলা হবে। তার পরের রাতেও হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কারণ তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হবে। এরপর সেতুগুলোতে হামলা হবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল করে দেব। সব সেতু ধ্বংস করে দেব, যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে।’

ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিতে পৌঁছানো ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রায় ১ ঘণ্টা আগেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়… তাদের চুক্তি করাই ভালো। নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না’।

হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ‘আমি আগে সেখানে (হরমুজ প্রণালি) একটি ফি আরোপের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু এর পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চায়, যা আমার কাছে আরও ভালো মনে হয়েছে। আমি ফি আরোপের ধারণাটি পছন্দ করি না। হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। না হলে অন্যরাও একই কাজ শুরু করবে।’

ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এই লোকদের সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন। আর সেই শক্তি হলো সামরিক শক্তি। আমরা সেটাই করেছি’।

তিনি আরও দাবি করেন, ‘দুই দিন আগে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা তা ভেঙে দিয়েছে।’

ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের আগে মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

পরে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা বেড়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস মঙ্গলবার দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন