জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সময়ে ইরানে নতুন দফায় হামলার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনার বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার জবাবে এর আগে ৬ দফা ড্রোন হামলা চালানো হয়। নতুন অভিযানও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ইরানের স্থলভাগ, সমুদ্রসীমা কিংবা আকাশসীমায় যেকোনও হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সেনাবাহিনী ‘সায়েকেহ’ অভিযানের অষ্টম ধাপ শুরু করেছে। এর আওতায় ওই অঞ্চলে থাকা ‘মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো’ লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের অবস্থান এবং বড় সরঞ্জাম রাখার হ্যাঙ্গারে দ্বিতীয়বারের মতো বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে হামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জর্ডানের আজরাকে অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটির মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
বাহিনীটি আবারও জানিয়েছে, তাদের অভিযান চলমান থাকবে। ইরানের ভূখণ্ডে যেকোনও হামলার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
এর মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম দেশটির অন্তত ৭টি স্থানে নতুন বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানে নতুন দফায় হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করাই এসব হামলার লক্ষ্য।
সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোর ওপর আবারও নৌ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হলেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।