হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২টি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলায় ১ ভারতীয় নাবিক নিহত এবং ৬ ভারতীয়সহ ৮ জন আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এ ঘটনায় ভারতে নিযুক্ত ইরানের উপ-মিশনপ্রধান মোহাম্মদ জাভেদ হোসেইনিকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে চলাচলের সময় এমটি মোমবাসা ও এমটি আল বাহিয়াহ নামের ২টি ট্যাংকারে হামলা হয়।
এমটি মোমবাসায় থাকা ১ ভারতীয় নাবিক হামলায় নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। তাদের মধ্যে ৬ জন ভারতীয় ও ২ জন ইউক্রেনের নাগরিক। আহতদের ৪ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
হামলার পর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের উপ-মিশনপ্রধান মোহাম্মদ জাভেদ হোসেইনিকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বৈঠকে তাকে ঠিক কী বার্তা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বৈঠক শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পরে এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় এমটি আল বাহিয়াহ ও এমটি মোমবাসা ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে ভারত।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নাবিকদের লক্ষ্য করে হামলা এবং হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল ব্যাহত করার মতো সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। মধ্যপ্রাচ্যে আবারও হামলা ও সংঘাত বৃদ্ধিতে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ভারত আরও বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দ্রুত অবাধ ও নিরাপদ বাণিজ্যিক চলাচল পুনরুদ্ধার করা যায়।’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন হামলার শিকার জাহাজ ও ট্যাংকার থেকে বহু ভারতীয় নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
গত মাসে পালাউয়ের পতাকাবাহী এমটি সেট্টেবেলো নামের একটি ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছিলেন।