ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কয়েকটি এলাকায় ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতাও জারি করেছে।
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, বুধবার (১৫ জুলাই) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদগামী ৪টি, জেদ্দাগামী ৪টি, দুবাইগামী ২টি এবং শারজাহগামী ১টি ফ্লাইট রয়েছে।
বাতিল ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৬টি এবং ফ্লাইআদেলের জেদ্দাগামী ২টি ফ্লাইট রয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট ও বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে আবহা থেকে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড৮১৫ ও এফজেড৮১১ ফ্লাইটের। তবে উভয় ফ্লাইটই বাতিল করা হয়েছে।
একইভাবে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে শারজাহর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত এয়ার অ্যারাবিয়ার জি৯১৯৫ ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আবহা থেকে অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। এসব ফ্লাইটের গন্তব্য ছিল দুবাই, শারজাহ, রিয়াদ ও জেদ্দা।
এদিকে মঙ্গলবার সৌদি আরবের জন্য ভ্রমণ পরামর্শ হালনাগাদ করেছে কানাডা। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অস্থিরতার কারণে পুরো সৌদি আরবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
বিশেষ করে আসির প্রদেশের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। কানাডার মতে, সেখানে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি রয়েছে।
ইয়েমেন সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কানাডা। পাশাপাশি সীমান্ত থেকে ৩০ থেকে ৮০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় আল কাতিফ গভর্নরেট, ইরাক সীমান্তসংলগ্ন বিধিনিষেধ থাকা এলাকা এবং হাফর আল বাতিন ও খাফজির কাছাকাছি এলাকাতেও অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কানাডা জানিয়েছে, সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য আকাশযানের মাধ্যমে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নতুন সামরিক তৎপরতা শুরু হলে স্বল্প সময়ের নোটিশে আরও ফ্লাইট বাতিল এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে কানাডার নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত নথি হালনাগাদ রাখতে বলা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণের পাশাপাশি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর সৌদি আরব-ইয়েমেন সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলেছে। সীমান্ত থেকে ১০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। যেকোনো সময় নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, হুথিরা প্রকাশ্যে সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছে। অতীতেও দেশটির বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা।
এ কারণে ব্রিটিশ নাগরিকদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে দূরে থাকা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সৌদি আরব ছাড়ার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ভ্রমণ পরামর্শ উপেক্ষা করে কোনো এলাকায় গেলে ভ্রমণ বিমার সুবিধা বাতিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য।
এদিকে সৌদি আরবের জন্য তৃতীয় মাত্রার ভ্রমণ সতর্কতা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। সৌদি আরবের কয়েকটি এলাকায় চতুর্থ মাত্রার সতর্কতাও কার্যকর রয়েছে। এসব এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা, অবকাঠামো ও কূটনৈতিক স্থাপনা অতীতে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল প্রশাসনও সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক বিমান চলাচলের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরব ছাড়ার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।