ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারে ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইহুদিদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার পর সোমবার এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নতুন এই তহবিলের আওতায় যেসব এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্রিটিশ ইহুদি বসবাস করেন, সেখানে ৫০০ জনের বেশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে শুধু লন্ডনেই দায়িত্ব পালন করবেন ৩০০ জন পুলিশ সদস্য।
এ ছাড়া সিনাগগ এবং ইহুদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইহুদিবিদ্বেষ যেভাবে বেড়েছে, তা আমাদের জাতীয় মূল্যবোধের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই এ সমস্যা মোকাবিলা আমার নেতৃত্বের অন্যতম অগ্রাধিকার।’
সরকার জানিয়েছে, তিন বছর মেয়াদি এই কর্মসূচির অর্থের একটি অংশ ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ম্যাট জুকস বলেন, ‘ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও বৈরী রাষ্ট্রগুলোর হস্তক্ষেপের কারণে ইহুদি সম্প্রদায় বর্তমানে ব্যতিক্রমধর্মী নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে।’
গত এপ্রিলের শেষ দিকে লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুই ইহুদি আহত হন। পুলিশ ওই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বসন্তকালজুড়ে ইহুদিদের লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে লন্ডনের কয়েকটি সিনাগগে অগ্নিসংযোগ এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনাও ছিল।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের একটি সিনাগগে হামলায় ২ জন নিহত হন।
সরকার আরও জানিয়েছে, ঘোষিত বরাদ্দের মধ্যে ৫৯ মিলিয়ন পাউন্ড সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ ইউনিটের জন্য রাখা হয়েছে। এই অর্থ রাষ্ট্রীয় হুমকি মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ব্যয় করা হবে।
এপ্রিলের গোল্ডার্স গ্রিন হামলার পর অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সে সময় তিনি অভিযোগ করেন, ইরান ‘ব্রিটিশ ইহুদিদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে’।
এর আগে গত মে মাসে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণাপ্রসূত হামলা মোকাবিলায় ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের ঘোষণা দেয়।