স্বাস্থ্যখাতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী। একই সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ক্যাথ ল্যাব স্থাপন করবে সরকার।
রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ভুল পরীক্ষার ফাঁদ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, কোনো ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষার ফাঁদে পড়ে যেন জনগণের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য ল্যাব পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রবীণ হয়ে যাচ্ছি, তাই দেশের ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য একটি যোগ্য ও মানসম্মত তরুণ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সমাজ থেকে সব ধরনের অনিয়ম দূর করে একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী স্বাস্থ্যকর্মী। তারা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মায়েদের প্রসব-পূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী কাউন্সেলিং করবেন।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রসূতি মায়েদের সচেতনতা বাড়ানো, স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহ দেওয়া, নবজাতকদের মায়ের বুকের দুধ পানের হার বৃদ্ধি এবং শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা।
প্রতিটি জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গরিব মানুষকে যেন চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে দৌড়াতে না হয়, সেজন্য প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালেও ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার করা হচ্ছে।
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন বড় পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, চলতি অর্থবছর থেকেই দেশের প্রতিটি গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
দেশের প্রতিটি ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্য সহকারী কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে উন্নত স্ক্রিনিং বক্সের ব্যবস্থা করা হবে।