Ridge Bangla

স্ত্রীর মন্তব্যে ‘উত্তেজিত’ হয়ে হত্যা, যাবজ্জীবনের বদলে ৭ বছরের সাজা দিল হাইকোর্ট

ভারতের মধ্যপ্রদেশে গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কমিয়ে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, স্ত্রীর একটি মন্তব্যে অভিযুক্ত তাৎক্ষণিকভাবে চরমভাবে উত্তেজিত হয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারান, যা মামলার রায়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে ধরা হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্ত্রী কিরণ স্বামী শিবকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তোমার মতো হাজারটা স্বামী আমি রাখতে পারি।’ আদালতের মতে, এই মন্তব্য অভিযুক্তকে গুরুতর ও আকস্মিকভাবে প্ররোচিত করেছিল।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাই মাসে মধ্যপ্রদেশের কুলবাহেরি নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। তখন কিরণ ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তর্কের একপর্যায়ে শিব নদীর তীরে পড়ে থাকা একটি পাথর দিয়ে তার মাথা ও মুখে আঘাত করেন। পরে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুস বিকল হয়ে কিরণের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে তার বুক ও পাঁজরের হাড় ভাঙার তথ্যও উঠে আসে।

ঘটনার পর শিব নিজেই নিহতের স্বজনদের ফোন করে হত্যার কথা জানান। পরে পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করেন। নিম্ন আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল।

তবে বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল ও বিচারপতি অবনীন্দ্র কুমার সিংয়ের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ আপিলের শুনানিতে রায় পরিবর্তন করেন। আদালত বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না এবং অভিযুক্ত তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বশে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। এ কারণে অপরাধের ধরন পরিবর্তন করে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বামীর প্রতি ওই ধরনের মন্তব্য নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন মানুষের আত্মমর্যাদায় আঘাত করে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো ‘গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনা’ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই রায়কে ঘিরে ভারতে আইনি ও সামাজিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, মৌখিক তর্ক বা অপমান কি একজন গর্ভবতী নারীকে হত্যার মতো অপরাধে সাজা কমানোর ভিত্তি হতে পারে?

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন