Ridge Bangla

মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সংকটে ৫ বছরে আত্মহত্যা করেছেন ৬৫ পুলিশ সদস্য

বাংলাদেশ পুলিশে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিংয়ের অভাব উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ৬৫ জন পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তার ঘাটতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১০ জন, ২০২১ সালে ১১ জন, ২০২২ সালে ৬ জন, ২০২৩ সালে ১৩ জন, ২০২৪ সালে ৩ জন, ২০২৫ সালে ১৪ জন এবং ২০২৬ সালের জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ৮ জন পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ সালে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আত্মহত্যাকারীদের বড় অংশই কনস্টেবল ও সহকারী উপপরিদর্শক পদমর্যাদার। গত দেড় বছরে আত্মহত্যা করা সদস্যদের মধ্যে ১৬ জন কনস্টেবল, ৪ জন সহকারী উপপরিদর্শক, ১ জন উপপরিদর্শক এবং ১ জন সহকারী পুলিশ সুপার রয়েছেন।

নিহতদের স্বজন, সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাকরির চাপ, পারিবারিক জটিলতা, আর্থিক সংকট, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, বদলি, পরিবার থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা, ছুটি না পাওয়া এবং মানসিক অবসাদ অনেককে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের তথ্যেও এসব কারণের প্রতিফলন পাওয়া গেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার সদস্য কর্মরত থাকলেও পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেই। ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ থাকলেও সেখানে স্থায়ী কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশের ৫৯টি জেলার পুলিশ চিকিৎসাকেন্দ্রেও পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়নি।

মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ এমন একটি পেশা যেখানে মানসিক চাপ তুলনামূলক বেশি। তবে আত্মহত্যা কখনো একক কোনো কারণে ঘটে না; একাধিক কারণ দীর্ঘদিন ধরে জমা হওয়ার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই পুলিশ সদস্যদের জন্য নিয়মিত মানসিক চাপ কমানোর ব্যবস্থা ও কাউন্সেলিং চালু করা জরুরি।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক নুরুল হুদার মতে, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার কারণে অনেক সদস্য হতাশায় ভোগেন। তিনি বলেন, পুলিশের হাসপাতালগুলোতে স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিটের কমান্ডারকে অধীনস্থ সদস্যদের মানসিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন