দেশে ধর্ষণের মামলা বেড়ে যাওয়ার পেছনে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর বক্তব্য, আগে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ধরনের প্রভাবের কারণে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা থানায় মামলা করতে যেতেন না বা যেতে পারতেন না। বর্তমানে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি অনলাইনেও সাধারণ ডায়েরি ও এজাহার দাখিলের সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি মঞ্জুরি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বক্তব্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য তুলে ধরে মার্চ ও এপ্রিল মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সূচকে উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, ধর্ষণের মামলার সংখ্যা কিছুটা বেশি দেখা গেলেও এর কারণ হলো এখন ভুক্তভোগীরা সহজেই মামলা করতে পারছেন এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। গ্রেপ্তার, অভিযোগপত্র দাখিল, সাক্ষী উপস্থাপন ও বিচার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলেও তিনি দাবি করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি পল্লবীর শিশু হত্যা মামলার বিচার ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তনু হত্যা মামলার আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশ কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ব্যবস্থা নেয় না, বরং অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার স্থায়ী উন্নয়নে জনগণের সচেতনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ডগ স্কোয়াড, আধুনিক অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষাগার স্থাপন এবং অনলাইন-অফলাইন জুয়া ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইনের পরিবর্তে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের কথাও জানান তিনি।