Ridge Bangla

সংসদে তোষামোদ ও চরিত্রহননের সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

জাতীয় সংসদে ব্যক্তিপূজা, তোষামোদ এবং চরিত্রহননের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদ কোনো ব্যক্তিকে খুশি করার জায়গা নয়; এটি জনগণের প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের স্থান। জনগণের করের অর্থ ব্যয় করে সংসদে যেন আর কোনো চরিত্রহননের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে স্পিকারের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।

সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের দৃষ্টিভঙ্গি এক হবে- এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। ভিন্নমত থাকাটাই সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদের বিবেক, মহান আল্লাহ এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাজেট অধিবেশনকে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি অর্থবছরের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই এই বাজেটের ওপর নির্ভর করে। তাই সংসদ সদস্যরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

বক্তব্যে তিনি মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী এবং আ স ম আবদুর রবের অবদানের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি ৯০-এর গণআন্দোলন, ২৮ অক্টোবর, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর এবং সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে নিহত ও নির্যাতিতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

নিজের দলকে ‘কষ্টে বোকা দল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দলের ১১ জন সিনিয়র নেতাকে হারিয়েছে তারা এবং ১২ নম্বর ব্যক্তি হিসেবে এখনো তিনি বেঁচে আছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী এবং সেই সময়ের নির্যাতিত পরিবারগুলোর প্রতিও সমবেদনা জানান তিনি।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি জাতির জন্য গভীর ক্ষতির ঘটনা। তিনি নিহত সেনা সদস্যদের শাহাদত কবুলের জন্য দোয়া করেন এবং বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ উল্লেখ করে বলেন, এই সংসদের কর্মকাণ্ড যেন দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়।

তিনি বলেন, সংসদকে একটি যানবাহনের সঙ্গে তুলনা করলে সরকারি ও বিরোধী দল তার দুটি চাকা। যেকোনো একটি দুর্বল হয়ে পড়লে পুরো ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই উভয় পক্ষকে পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের সব সিদ্ধান্তে বিরোধী দল অন্ধ সমর্থন দেবে না, আবার জনস্বার্থে ভালো উদ্যোগ এলে শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতাও করবে না বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারি দলকে বিরোধী মতের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

অতীতে সংসদে ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গান, কবিতা ও অতিরঞ্জিত প্রশংসার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় করে সংসদকে তোষামোদের মঞ্চে পরিণত করা উচিত নয়। অতীতে ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যের চরিত্রহননের যে অপসংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রীর উপস্থাপিত বাজেটের প্রশংসা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে একটি সংকটাপন্ন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ২৩৪ পৃষ্ঠার বাজেট প্রণয়ন সহজ কাজ নয়। তবে কোনো বাজেটই ত্রুটিমুক্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো প্রহরীর ভূমিকা পালন করে জনস্বার্থবিরোধী দিকগুলো চিহ্নিত করা।

তিনি বলেন, সংসদে বাজেট নিয়ে দেওয়া যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে সংশোধনের উদ্যোগ নিলে জনগণের কাছে সংসদীয় আলোচনার কার্যকারিতা আরও স্পষ্ট হবে।

বাজেট বাস্তবায়নের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ভিত্তিক অর্থবছর চালু করা উচিত। তাঁর মতে, এতে বছরের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন, অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট সংসদে অনুমোদিত হলেও এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর বর্তায়। তাই জনগণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

This post was viewed: 12

আরো পড়ুন