প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর শুরু হচ্ছে মালয়েশিয়ার মধ্য দিয়ে। মালয়েশিয়া সফর শেষে সেখান থেকেই সরাসরি চীন সফরে যাবেন তিনি। আগামী ২২ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের চীনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, সফরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।
চীন সফরে তেইশ জুন দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর চব্বিশ জুন বিকেলে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। ঢাকা-বেইজিং কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, দালিয়ান থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে বুলেট ট্রেনে বেইজিং যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরসূচি অনুযায়ী, পঁচিশ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না হলেও পনেরটির বেশি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। ছাব্বিশ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে একই দিন দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম ভিভিআইপি বিদেশ সফরের দ্বিতীয় অংশ। এটি বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বৈদেশিক নীতির প্রতিফলন।
এর আগে একুশ জুন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন বাইশ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। ওই দিন বিকেলেই মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
ঢাকা-কুয়ালালামপুর কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, তথ্য ও সম্প্রচার, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা সম্পর্কিত কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও নোট অব এক্সচেঞ্জ হতে পারে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় থাকা প্রায় দশ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মীর নিরাপদ অভিবাসন ও কর্মসংস্থান নিয়েও দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয় বিবেচনায় মালয়েশিয়া সফর শেষে সরাসরি চীন যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
বেইজিংয়ের একটি সূত্র জানায়, চীনে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতি, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের নেতা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, পঁচিশ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি দুই সরকারপ্রধানের একান্ত বৈঠকও হতে পারে। একই দিনে আরও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
চীন সফর ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতা বাড়াতে একাধিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে এসব সমঝোতা হতে পারে।
সূত্র জানায়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা, বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি, মুক্ত বাণিজ্য, সবুজ উন্নয়ন, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। তবে এর বেশ কয়েকটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে।