এইচ-১বি ভিসার আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারণ করা ১ লাখ ডলারের ফি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। সোমবার (৮ জুন) দেওয়া রায়ে আদালত বলেছেন, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগের এই ভিসা কর্মসূচিতে এমন শর্ত আরোপের এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই। খবর সিএনএনের।
মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ লিও সোরোকিন রায়ে উল্লেখ করেন, ফেডারেল অভিবাসন নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন আনার ক্ষমতা শুধু কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। তিনি বলেন, এই ফি কার্যত একটি ট্যাক্সের মতো এবং আইনপ্রণেতারা নির্বাহী বিভাগকে একক সিদ্ধান্তে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমোদন দেননি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় নিয়োগ পাওয়া বিচারক সোরোকিন তার ৪২ পৃষ্ঠার রায়ে লেখেন, এইচ-১বি আবেদনপত্রের ওপর কর আরোপ করার কোনো ক্ষমতা বা অর্পিত কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের ছিল না। কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে অভিবাসন নীতিতে কিছু পরিবর্তনের সুযোগ দিলেও কোথাও তাকে কর আরোপের ক্ষমতা দেয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য ১ লাখ ডলারের এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে গত ডিসেম্বর মাসে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি জোট ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করে।
আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। তবে বিচারক সোরোকিন জানান, এসব আইনের কোথাও প্রেসিডেন্টকে অভিবাসন খাতে কর আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে বিশেষায়িত দক্ষতা ও জ্ঞান প্রয়োজন- এমন পেশায় বিদেশি পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। এই ভিসার আবেদনকারীদের স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়।
সাধারণত এই ভিসার মেয়াদ তিন বছর। পরবর্তীতে আরও তিন বছরের জন্য এটি নবায়নের সুযোগ থাকে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই কর্মসূচি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম থাকতে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করে, যা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।