হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজযাত্রীদের ১৫০টি লাগেজ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তদন্তে শাহজালাল বিমানবন্দরে এ ধরনের কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ওই ফ্লাইটে মোট ২১টি ক্ষতিগ্রস্ত লাগেজ পাওয়া গেছে। এগুলো সৌদি আরবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি জানতে সৌদি সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাত ৩টায় সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে আসা একটি হজ ফ্লাইটের প্রায় দেড়শ’ যাত্রীর লাগেজ কাটা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ সংক্রান্ত একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ঘটনা তদন্ত শুরু করে সরকার। তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের বডি-ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব থেকে আসা ওই হজ ফ্লাইটে মোট ৮৩৬টি লাগেজ ছিল। এর মধ্যে ২১টি লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ৩ থেকে ৪টি লাগেজ কাটা ছিল। তবে সরকারি তদন্তে শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ কাটার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, লাগেজগুলো সৌদি আরবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় কাটা হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এ সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর আগে জুলাইয়ের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ৪৬টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন। এর বিপরীতে ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এর প্রথমটি ২০৩১ সালে বিমানের বহরে যুক্ত হবে।