Ridge Bangla

শ্রম আইন বাতিলের দাবিতে ধর্মঘটে অচল পর্তুগাল, পাঁচ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল

সরকারের প্রস্তাবিত নতুন শ্রম আইনের প্রতিবাদে সাধারণ ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে পর্তুগালের বিভিন্ন কার্যক্রম। স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবা সীমিতভাবে চালু থাকলেও মেট্রোরেলসহ অনেক সরকারি পরিষেবা বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক ফ্লাইট।

কর্মীদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে- এমন অভিযোগ তুলে নতুন শ্রম আইন বাতিলের দাবিতে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিক সংগঠন সিজিটিপি।

ধর্মঘটের কারণে বুধবার রাজধানী লিসবন থেকে কোনো দূরপাল্লার ট্রেন ছেড়ে যায়নি এবং বাইরের কোনো ট্রেনও শহরে প্রবেশ করেনি। স্টেশনে গিয়ে ট্রেন বাতিলের খবর পেয়ে অনেক যাত্রী ফিরে যেতে বাধ্য হন। ধর্মঘট সফল করতে বিভিন্ন স্টেশনে অবস্থান নেন ইউনিয়নের সদস্যরা।

মধ্যরাত থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় মেট্রোরেল স্টেশনের প্রবেশপথ। কিছু বাস সীমিত পরিসরে চলাচল করলেও দীর্ঘ অপেক্ষায় পড়েন যাত্রীরা। গণপরিবহন সংকটে কাজে যেতে বাধ্য হওয়া অভিবাসীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়েন।

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি সরকারের প্রস্তাবিত শ্রম আইনকে সমর্থন করি না। তাই ধর্মঘটে অংশ নিয়েছি। আমি দেখছি অনেক তরুণও এই আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকারকে অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।’

লিসবনের পাশাপাশি পর্তুগালের বিভিন্ন শহরে নার্স, চিকিৎসকসহ নানা পেশার মানুষ কর্মবিরতিতে অংশ নেন। শ্রমিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে নতুন শ্রম আইন জনগণ গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয় বলে দাবি করেছে সিজিটিপি।

সংগঠনটির জেনারেল সেক্রেটারি তিয়াগো অলিভেইরা বলেন, ‘সিজিটিপি শ্রমজীবী মানুষকে তাদের দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমেই এই অন্যায্য আইন বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করা সম্ভব। এত মানুষের দাবি সরকার উপেক্ষা করতে পারবে না।’

ধর্মঘটের বড় প্রভাব পড়ে লিসবন বিমানবন্দরে। সেখানে পাঁচ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে না পেরে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা।

এ ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষা খাতের কর্মীরাও ধর্মঘটে যোগ দেওয়ায় দেশটির বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন