রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। রুশ নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে নৌঘাঁটি ও তেল টার্মিনাল লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে কিয়েভ।
বুধবার (৩ জুন) ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল ও নৌঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে একটি অস্ত্র কারখানাতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে।
একই দিনে দোনেৎস্ক অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব হামলাকে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘ন্যায়সঙ্গত’ প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মস্কোর পক্ষ থেকে এর ‘পদ্ধতিগত’ ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এর একদিন আগে ইউক্রেনজুড়ে সাড়ে ৬শ’র বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রেও ইউক্রেনীয় বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে রুশ বাহিনী। বুধবার দিনভর দুই পক্ষের মধ্যে শতাধিক সম্মুখ লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যেই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। জার্মান সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইউরোপীয় পক্ষ ও রাশিয়ার মধ্যে শিগগিরই আলোচনা শুরু হতে পারে।
আলোচনায় ইউরোপের পক্ষে জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সমন্বয়ে গঠিত ‘ই-থ্রি’ জোট নেতৃত্ব দিতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।